বাংলায় মহা সপ্তমী উদযাপন, রাজ্যের বৃহত্তম উৎসব দুর্গাপূজা শুরু

কলকাতা, 29 সেপ্টেম্বর (পিটিআই): রাজ্যের বৃহত্তম উৎসব দুর্গাপূজা সোমবার মহা সপ্তমী উদযাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়েছে। মেঘলা আকাশ, গুমোট আবহাওয়া এবং ক্ষণস্থায়ী বৃষ্টিও পশ্চিমবঙ্গের উৎসবের মেজাজ নষ্ট করতে পারেনি।

সপ্তমী: উৎসবের সূচনা

  1. পূজারম্ভ: ভোর থেকে নদীর ধারে আচার-অনুষ্ঠানে স্নান এবং প্যান্ডেলগুলির বাইরে ভিড় প্রমাণ করে যে এই দিনটি থেকে পুরোদমে দুর্গাপূজার উৎসব শুরু হয়েছে, যেখানে ভক্তি এবং আনন্দ এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় মিশে যায়।
  2. নবপত্রিকা স্থাপন: ভোরের আলোয় হুগলি নদীর ঘাট এবং বাংলার পুকুরগুলি শঙ্খধ্বনি এবং ঢাকের বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে। পুরোহিতরা নবপত্রিকার স্নান করান—নবপত্রিকা হল কলাগাছকে প্রধান করে নয়টি উদ্ভিদকে একত্রিত করে লাল পাড়ের শাড়িতে নববধূর মতো সাজানো একটি প্রতীক।
  3. কলাবউ: সস্নেহে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত এই পবিত্র উদ্ভিদকে গণেশ ঠাকুরের পাশে স্থাপন করা হয়, যা দেবী এবং তাঁর সন্তানদের মণ্ডপে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে চার দিনের উদযাপনের সূচনা করে।

কলকাতার রাজপথে জনজোয়ার

  1. বিশাল ভিড়: দুপুর গড়াতেই কলকাতার রাস্তাঘাট যেন জনস্রোতে পরিণত হয়। মহিলারা নতুন শাড়িতে, পুরুষরা ধুতি-পাঞ্জাবি বা জিন্সে, শিশুরা বেলুন এবং ফুচকা হাতে থিম-ভিত্তিক প্যান্ডেলগুলির দিকে এগিয়ে চলে, যেখানে বিশাল প্রতিমা এবং বিস্তৃত শিল্পকর্ম মানুষকে মুগ্ধ করে।
  2. উৎসবের স্পৃহা: গৃহিণী সঞ্চিতা চ্যাটার্জী তার এক কোলে মেয়েকে সামলে এবং অন্য হাতে খিচুড়ি ভোগের থালা নিয়ে বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু পূজা নয়। এটা আমাদের পরিচয়, আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব।”
  3. ভিড়ের সৌন্দর্য: মুরশিদাবাদের ঢাকীরা অবিরাম বাদ্য বাজিয়ে চলেন, হকাররা খেলনা ও চুড়ি বিক্রি করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্য বিতরণ করেন। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় ট্র্যাফিক মন্থর হয়ে আসে এবং পুলিশকে বিপুল ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। 72 বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অশোক মুখার্জি বলেন, “হ্যাঁ, ভিড় আছে, তবে এটাই তো পূজার সৌন্দর্য। অন্যভাবে এর কল্পনাও করা যায় না।”

আগামী দিনের প্রস্তুতি

  1. রাতের উজ্জ্বলতা: সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শহর তার নৈশ রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত হয়। মণ্ডপগুলি প্রাসাদের মতো ঝলমল করে, পাড়াগুলো রঙিন আলোয় ঝকমক করে এবং সেলফি তুলতে থাকা যুবক-যুবতী এবং গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে থাকা পরিবারগুলির ভিড় আরও বাড়ে।
  2. আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণ বাংলায় সপ্তাহের মাঝামাঝি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন, বিজয়া দশমীতে, আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সপ্তমীর দিন আবহাওয়ার দেবতা সহায় থাকায় বাংলার এই জমজমাট উৎসব অবাধে গড়িয়ে চলে।
  3. পূজার সমাপ্তি: সামনের দিনগুলি—অষ্টমী, নবমী এবং অবশেষে দশমী—পূজা ও প্রদর্শনের এই স্পৃহাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, যার সমাপ্তি হবে নদী ও পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে। এই আচার দেবী দুর্গার মহিষাসুরের ওপর জয়ের পর তাঁর চার সন্তান—লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক এবং গণেশকে নিয়ে তাঁর স্বামী মহাদেব এর কাছে কৈলাস পর্বতে প্রত্যাবর্তনের প্রতীক

সপ্তমী, হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকার শুক্লপক্ষের সপ্তম দিন, উৎসবের প্রকৃত সূচনাকারী হিসাবে বিবেচিত হয়। এই দিনেই আচার, শিল্পকলা, বিশ্বাস এবং উৎসবের আমেজ একত্রিত হয়ে থাকে।

Category: ব্রেকিং নিউজ

SEO Tags: #swadesi, #News, #দুর্গাপূজা, #মহাসপ্তমী, #কলকাতা_উৎসব, #নবপত্রিকা, #কলাবউ, #পশ্চিমবঙ্গ