প্রায় পঁচিশ বছরের দীর্ঘ ভক্তদের অনুরোধ ও ব্যর্থ রিবুটের পর, ইউনিভার্সাল পিকচার্স তাদের প্রিয় মমি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আবার ফিরিয়ে আনছে। ব্রেন্ডন ফ্রেজার এবং রেচেল ওয়াইজ চতুর্থ কিস্তিতে রিক ও’কনেল এবং ইভলিন “ইভি” কার্নাহান চরিত্রে ফিরে আসার জন্য অগ্রসর আলোচনায় রয়েছেন। ৪ নভেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ম্যাট বেটিনেলি-অলপিন এবং টাইলার গিলেট (রেডিও সাইলেন্স) পরিচালিত এই নামহীন প্রকল্পটি ১৯৯৯ সালের ব্লকবাস্টার এবং ২০০১ সালের সিক্যুয়েলের সরাসরি ধারাবাহিকতা হবে, যেখানে ২০০৮ সালের টুম্ব অফ দ্য ড্রাগন এম্পেরর ছবিটিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে উপেক্ষা করা হবে। ডেভিড কগ্গেশল (প্রে) রচিত চিত্রনাট্যসহ, এই সিনেমা অস্কারজয়ী জুটির জয়যাত্রার প্রত্যাবর্তনকে চিহ্নিত করছে, সমগ্র বিশ্বে বিনোদন শিল্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের উত্থান এবং মরুভূমির ধাওয়া ও অভিশপ্ত সারকোফাগাসের স্মৃতিতে মোহগ্রস্ত ৩০ কোটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মাঝে ১২ লক্ষ #MummyReunion উল্লেখকে উসকে দিয়েছে।
১৯৯৯-এর সোনার খনি থেকে ২০১৭-এর ভুল পথে
স্টিফেন সামার্স পরিচালিত মূল দ্য মমি ১৯৩২ সালের ইউনিভার্সালের ভৌতিক ক্লাসিককে ইন্ডিয়ানা জোন্স ধাঁচের অ্যাডভেঞ্চার-কমেডিতে পুনর্নির্মাণ করে, ৮০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে ৪১৬ মিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক আয় করে এবং একটি ত্রয়ী উপহার দেয় যা ফ্রেজারকে শীর্ষ তারকায় পরিণত করে। ফ্রেজারের কৌতুকময় ট্রেজার হান্টার রিক, ওয়াইজের মেধাবী ইজিপ্টোলোজিস্ট ইভির সঙ্গে দল বেঁধে পুনর্জীবিত পুরোহিত ইমহোটেপের (আর্নল্ড ভসলো) বিরুদ্ধে লড়ে, যেখানে ভয়, প্রেম ও হাস্যরসের অনবদ্য মিশ্রণ ছিল।
২০০১ সালের দ্য মমি রিটার্নস আরও উচ্চতায় পৌঁছায়, ৪৩৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে এবং পরিচয় করিয়ে দেয় অ্যালেক্স ও’কনেলকে (ফ্রেডি বোথ)। কিন্তু ২০০৮ সালের তৃতীয় ছবি ৪০১ মিলিয়ন ডলারে থেমে যায়, যেখানে ওয়াইজের বদলে মারিয়া বেলো অভিনয় করেন। আর ২০১৭ সালে টম ক্রুজের রিবুট ৪০৯ মিলিয়ন ডলারে ভরাডুবি হয়, ইউনিভার্সালের “ডার্ক ইউনিভার্স” পরিকল্পনাকে ধ্বংস করে দেয়।
রেডিও সাইলেন্সের পুনরুজ্জীবন: রিবুট নয়, সরাসরি সিক্যুয়েল
বেটিনেলি-অলপিন ও গিলেট, যারা ২০২২ ও ২০২৩ সালে স্ক্রিম সিরিজকে পুনর্জাগরিত করেছিলেন, সেই একই বুদ্ধিদীপ্ত ভয় ও উচ্ছ্বাসের মিশ্রণ মমিতে নিয়ে আসছেন। শন ড্যানিয়েল (মূল ত্রয়ী) এবং প্রজেক্ট এক্স এন্টারটেইনমেন্টের উইলিয়াম শেরাক, জেমস ভ্যান্ডারবিল্ট ও পল নিয়েনস্টাইনের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবি তৃতীয় ছবির পরিবর্তনগুলো উপেক্ষা করে রিটার্নস এর পরের গল্প থেকে শুরু করবে। ইনসাইডাররা THRকে জানিয়েছেন, “এটি প্রথম দুটি ছবির সিক্যুয়েল—ভক্তরা যা চেয়েছেন ঠিক তাই।”
কগ্গেশলের চিত্রনাট্যে প্রাচীন অভিশাপের সঙ্গে আধুনিক ঝুঁকির সংঘর্ষের ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ রিক ও পরিণত ইভি নতুন আতঙ্কের মুখোমুখি হবে—সম্ভাব্যভাবে ইমহোটেপের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতও রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে শুটিং শুরু এবং ২০২৭ সালে মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে মনস্টারভার্সের (গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার সিক্যুয়েল ২০২৭) সঙ্গে সংঘর্ষ না হয়।
ভক্ত উল্লাস ও ফ্র্যাঞ্চাইজির পুনরুত্থান
সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনার বিস্ফোরণ: “ফ্রেজার আর ওয়াইজ ফিরছে? ডার্ক ইউনিভার্স বাঁচল—বালুর ঝড়ে প্রেম ফিরে আসছে!” এমন একটি ভাইরাল পোস্টে ৬ লাখ লাইক পড়েছে, আর টিকটকে স্ক্যারাব বিটলের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ হয়েছে ফ্রেজারের দ্য হোয়েল দাড়িসহ। ভক্তরা রিবুট বাদ দিয়ে সরাসরি সিক্যুয়েল করার সিদ্ধান্তকে “অসাধারণ” বলে প্রশংসা করছেন, যা নস্টালজিয়ার ঢেউয়ে বিশ্বব্যাপী ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করছে। পোস্ট-ডিউন যুগে মহাকাব্যিক অ্যাডভেঞ্চারের চাহিদায়, ৫৭ বছর বয়সী ফ্রেজার ও ৫৫ বছর বয়সী ওয়াইজের প্রত্যাবর্তন বয়সের গর্বের উদযাপন, যা ক্রুজের ২০১৭ সালের ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউনিভার্সালের মনস্টারদের পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা, উলফ ম্যান (২০২৫)-এর পর, জোর করে ইউনিভার্স তৈরির বদলে স্বাভাবিক সংযোগ গঠনের দিকে নজর দিচ্ছে।
অভিশপ্ত প্রত্যাবর্তন: মমিদের অগ্রযাত্রা
ব্রেন্ডন ফ্রেজার এবং রেচেল ওয়াইজের মমি পুনর্মিলন কোনও সাধারণ রিভাইভাল নয়—এটি পুনরুত্থান। যখন রিক ও ইভি পিরামিডের ধুলো ঝেড়ে দাঁড়ায়, তখন প্রশ্ন ওঠে: ক্লাসিক কি কামব্যাক জয় করতে পারে? তাদের শাশ্বত জুটি জোরালোভাবে হ্যাঁ বলে ওঠে, সিনেমার বালুকাময় কাহিনিতে অ্যাডভেঞ্চারের চিরন্তন আকর্ষণকে আবারও জীবন্ত করে তোলে।
- লেখক: মনোজ এইচ

