জাকার্তা (ইন্দোনেশিয়া), ২০ নভেম্বর (AP): জাভা দ্বীপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট সেমেরু বুধবার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। পড়তে থাকা আগ্নেয়ছাই একাধিক গ্রাম ঢেকে ফেলেছে, যার ফলে ব্যাপকভাবে মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
পূর্ব জাভার এই আগ্নেয়গিরি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার উগরে দিয়েছে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে যাওয়া তীব্র গরম ছাইয়ের মেঘ, পাথর, লাভা ও গ্যাসের মিশ্রণ। পাশাপাশি ২ কিলোমিটার উচ্চতায় আরও একটি ঘন উত্তপ্ত মেঘ আকাশে উঠে যায়, ইন্দোনেশিয়ার ভূতত্ত্ব সংস্থা জানিয়েছে।
দিনভর হওয়া এসব অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আগ্নেয়গিরির সতর্কতার মাত্রা তৃতীয় সর্বোচ্চ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই।
লুমাজাং জেলার তিনটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামের ৩০০-র বেশি বাসিন্দাকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি।
তিনি জানান, বুধবার দুপুরের পর আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতার এলাকা বাড়িয়ে ক্রেটার থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত করা হয়েছে। বেসুক কোবোকান নদীর পাশের এলাকাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ লাভার প্রবাহ এই পথেই নেমে আসছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘন ছাইয়ে ভরা মেঘ বনের ভেতর দিয়ে ছুটে এসে একটি সেতুর নিচের নদীর দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। অনেকের মুখে আগ্নেয়ছাই ও বৃষ্টির দাগ দেখা গেছে—তারা আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৩,৬৭৬ মিটার উঁচু পাহাড়ের রানু কুম্বোলো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে আটকে পড়া ১৭৮ জনকে উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের। এর মধ্যে আছেন ১৩৭ জন পর্বতারোহী, ১৫ জন পোর্টার, ৭ জন গাইড এবং ৬ জন পর্যটনকর্মী।
“তারা এখন রানু কুম্বোলো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নিরাপদে আছেন,” ভিডিও বিবৃতিতে জানিয়েছেন TNBTS–এর মুখপাত্র এন্দ্রিপ ওয়াহিউতামা। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি ক্রেটার থেকে ৪.৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এবং উত্তপ্ত মেঘ দক্ষিণ–দক্ষিণপূর্ব দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এই কেন্দ্রটি বিপদসীমার বাইরে। খারাপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে তাদের রাতটি সেখানেই কাটাতে হয়েছে।
মহামেরু নামেও পরিচিত সেমেরু গত ২০০ বছরে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। ইন্দোনেশিয়ার ১২৯টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মতোই এর উর্বর ঢালে লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে আসছে।
সেমেরুর সর্বশেষ বড় অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল ডিসেম্বর ২০২১-এ, যাতে ৫১ জন মারা যান এবং শতাধিক মানুষ পুড়ে আহত হন। ১০,০০০-এর বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সরকার বিপদসীমা থেকে প্রায় ২,৯৭০টি বাড়ি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে।
প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অফ ফায়ার” বরাবর অবস্থিত ২৮ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
(AP) RD RD
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
SEO ট্যাগস: #swadesi, #News, Indonesia’s Mount Semeru erupts, blanketing villages with ash, prompting evacuations

