
নয়াদিল্লি, ১৭ ডিসেম্বর (পিটিআই): বুধবার লোকসভায় পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই বিল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। তবে বিরোধীরা প্রস্তাবিত আইনের কিছু ধারার শিথিলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ‘সাসটেইনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (শান্তি) বিল’ উত্থাপন করেন, যার লক্ষ্য বেসামরিক পারমাণবিক ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণের পথ খুলে দেওয়া।
মন্ত্রী এই বিলকে একটি “মাইলস্টোন আইন” বলে উল্লেখ করেন, যা দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নতুন দিশা দেখাবে।
তিনি বলেন, “বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা বাড়ছে। বৈশ্বিক শক্তি হতে গেলে আমাদের বৈশ্বিক মানদণ্ড ও কৌশল অনুসরণ করতে হবে। বিশ্ব এখন পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে এগোচ্ছে। আমরাও ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।”
তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা পূরণ এবং শক্তির মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তির অংশ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে এই বিল জরুরি।
সিং আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারিত ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো নির্গমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, পারমাণবিক সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত ধারা অপসারণ করলে ভবিষ্যতে কোনো পারমাণবিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি ১৯৬২ সালের পারমাণবিক শক্তি আইন এবং ২০১০ সালের পারমাণবিক ক্ষতির জন্য নাগরিক দায়বদ্ধতা আইন বাতিলের বিধানের বিরোধিতা করেন।
“আমি সরবরাহকারীর দায়বদ্ধতা নিয়ে একটি শব্দও খুঁজে পাইনি। বেসরকারিকরণ হলে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপস্থিতি বাড়বে। সরবরাহকারীর দায়বদ্ধতা তুলে দিলে ভারত কীভাবে উপকৃত হবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিওয়ারি।
তিনি বলেন, বিলটি পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রক বোর্ডকে আইনি মর্যাদা দিলেও স্বায়ত্তশাসন দেয়নি।
“আমাদের একটি নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক দরকার,” বলেন তিনি।
তিওয়ারি ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতিহাস তুলে ধরে বিলটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানান।
