কলকাতা, ১৯ ডিসেম্বর (পিটিআই): পাটকল মালিকদের এক সংগঠন কেন্দ্র সরকারের কাছে অবিলম্বে বাংলাদেশে পাটবীজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ‘সোনালি আঁশ’ দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণের আবেদন জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির কাঁচা পাট রপ্তানিতে বিধিনিষেধের জেরে দেশের অভ্যন্তরীণ পাট শিল্পে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী গিরিরাজ সিংকে পাঠানো এক চিঠিতে ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইজেএমএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ ৮ সেপ্টেম্বর থেকে একতরফাভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি সীমিত করায় ভারতে কাঁচামালের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে ঘরোয়া বাজারে পাটের দাম দ্রুত বেড়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, কাঁচামালের অভাব ও মূল্যবৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে ভারতীয় পাটকলগুলি গুরুতর আর্থিক চাপে পড়েছে। এর ফলে পাট শিল্পের সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খল এবং এই খাতে যুক্ত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে অসমতার অভিযোগ তুলে আইজেএমএ জানিয়েছে, বাংলাদেশ যেখানে ভারতীয় পাটকলগুলির জন্য কাঁচা পাট সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, সেখানে উচ্চ ফলনশীল (এইচওয়াইভি) পাটবীজের জন্য তারা প্রায় পুরোপুরি ভারতের ওপর নির্ভরশীল।
এই পাটবীজ ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাটজাত পণ্য তৈরি করা হয়, যা পরে কম দামে ভারতে রপ্তানি করা হয়—ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
পাটকল মালিকদের সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ভারত থেকে এইচওয়াইভি পাটবীজ রপ্তানি অব্যাহত থাকায় দেশের কৃষকদের জন্য বীজের প্রাপ্যতা কমছে এবং ভবিষ্যতে ঘরোয়া উৎপাদনও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
সংগঠনটির মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাটবীজকে কৌশলগত কৃষি উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এই সংকট মোকাবিলায় আইজেএমএ জুট কমিশনারের দফতর থেকে লাইসেন্সের মাধ্যমে পাটজাত পণ্যের আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষত এইচওয়াইভি পাটবীজের রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি পুনরায় শুরু না করা পর্যন্ত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের পাট শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলি অত্যন্ত জরুরি। পিটিআই বিএসএম বিডিসি
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগ: #স্বদেশি, #সংবাদ, বাংলাদেশে পাটবীজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা চান পাটকল মালিকরা

