
কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে “দিশাহীন ও দৃষ্টিভঙ্গিহীন হাম্পটি ডাম্পটি” বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, এই বাজেটে সাধারণ মানুষ ও তাঁর রাজ্যের জন্য কিছুই নেই।
নয়াদিল্লি রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই বাজেট দিশাহীন, দৃষ্টিভঙ্গিহীন, কর্মহীন এবং জনবিরোধী। এটি নারী-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, শিক্ষা-বিরোধী এবং এসসি, এসটি ও ওবিসিদের বিরুদ্ধেও। এই ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেটে বাংলার জন্য কিছুই নেই।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, “শিক্ষা খাতে তহবিল ও ভর্তুকি কমানো হয়েছে, একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ভর্তুকি ও সার ভর্তুকিও কমেছে। এটি মিথ্যার আবর্জনা… হিমালয়সম অযোগ্যতার পরিচয়। অর্থনীতি পুরোপুরি লাইনচ্যুত হয়ে যাবে।”
বাজেটের প্রভাব শেয়ার বাজারে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
“সেন্সেক্স ১,১০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেছে, নিফটি ৫০ নেমে গেছে ২৫,০০০-এর নিচে। প্রভাব পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে,” বলেন মমতা।
তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জন্য কী দেওয়া হয়েছে (বাজেটে)? কিছুই না। বড় বড় কথা বলা হয়, কিন্তু দেওয়া হয় কিছুই না।”
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।
পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্র শুধু আগেই ঘোষিত প্রকল্পগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছে।
“ফ্রেইট করিডরের কথা আমি ২০০৯ সালে রেল বাজেটে বলেছিলাম। তখনই ডানকুনি ও অমৃতসরের কথা উল্লেখ করেছিলাম। গত ১৫ বছরে এই খাতে কোনও খরচই হয়নি,” তাঁর দাবি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ছয়টি অর্থনৈতিক করিডরের কথা ঘোষণা করেছি। তিনটি করিডর নিয়ে কেন্দ্র যা বলেছে, তা মিথ্যা।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘জঙ্গল সুন্দরী’ অর্থনৈতিক করিডর-সহ একাধিক প্রকল্পে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ আসছে।
“এই করিডরে ৭২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে চলেছে। সিমেন্ট, কয়লা, চামড়া ও ইস্পাত শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা,” বলেন তিনি।
বাংলাকে আর্থিকভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন একটাই কর ব্যবস্থা। বাংলা থেকে যা আদায় করা হচ্ছে, তার প্রাপ্য আমাদের দেওয়া হচ্ছে না, যা ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি… তাই এভাবে সরকার চালানোর ও দেশ ধ্বংস করার কোনও নৈতিক অধিকার তাদের নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে “ব্যবস্থাগত ক্ষয়” চলছে।
“ওরা (বিজেপি) এই দেশের অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো ধ্বংস করতে চাইছে—স্বাধীন সংস্থা, পরিকাঠামো, সামাজিক কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো—সবই ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে,” যোগ করেন মমতা। (পিটিআই) SCH RBT
