
ওয়ারশ, ৬ ফেব্রুয়ারি (এপি) পোল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে, পোল্যান্ডের সংসদের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভ্লোদজিমিয়ের্জ চারজাস্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো “লেনদেন, যোগাযোগ বা কথাাবার্তা” থাকবে না। রাষ্ট্রদূত টম রোজের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে “অযৌক্তিক ও উসকানিমূলক অপমানজনক মন্তব্য” করার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তবে রোজ নির্দিষ্ট করে জানাননি কোন মন্তব্যগুলোকে তিনি অপমানজনক বলে মনে করছেন। তবে সোমবার চারজাস্তি এক প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেছিলেন, তিনি তাঁর ইসরায়েলি ও মার্কিন সমকক্ষদের উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রস্তাব সমর্থন করবেন না।
চারজাস্তি ডোনাল্ড টাস্কের নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী সরকারের একটি বামপন্থী দলের অন্যতম নেতা।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পোল্যান্ডকে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে—একদিকে ইউরোপীয় মিত্রদের পক্ষে থাকা, অন্যদিকে শান্তি অনেকটাই যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, সেই শক্তিশালী মিত্রকে অসন্তুষ্ট না করা, বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউক্রেনের প্রেক্ষাপটে। এখন পর্যন্ত ওয়ারশ এই ভারসাম্য বজায় রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো টাস্কের হাতে রেখে এবং জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল বিরোধী দল ল’ অ্যান্ড জাস্টিসের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কিকে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে।
নাভরোৎস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক ভালো। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প তাঁকে সমর্থন করেছিলেন এবং ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে পাশাপাশি বসে দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের সময় ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি পোল্যান্ড থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার কোনো ইচ্ছা রাখেন না—যা নতুন প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত। ট্রাম্প এমনকি বলেন, “তারা চাইলে আমরা সেখানে আরও সেনা পাঠাব।”
তবে চলতি সপ্তাহের এই বিরোধ বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডের অবস্থানের জটিলতাই তুলে ধরেছে।
সোমবার চারজাস্তি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ট্রাম্প “নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য নন।” তাঁর মতে, ট্রাম্প “শক্তির রাজনীতি করেন এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে লেনদেনভিত্তিক রাজনীতি অনুসরণ করেন।” এর ফলে প্রায়ই “আন্তর্জাতিক আইন ভাঙা হয়,” যোগ করেন ওই পোলিশ রাজনীতিক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে পোলিশ সেনাদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ট্রাম্প দেননি এবং গ্রিনল্যান্ডের মতো অন্যান্য ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে “উপকরণস্বরূপ আচরণ” করেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘোষণার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক।
“মিস্টার অ্যাম্বাসাডর রোজ, মিত্রদের উচিত একে অপরকে সম্মান করা, উপদেশ দেওয়া নয়,” বৃহস্পতিবার বিকেলে এক্স-এ লেখেন টাস্ক।
তবে রোজ এতে দমেননি। তিনি জবাবে লেখেন, পোলিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে “যুক্তরাষ্ট্রের এক আদর্শ মিত্র ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু” হলেও চারজাস্তির মন্তব্যগুলো “আপনার সরকারের জন্য সম্ভাব্যভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর।” ট্রাম্পকে অপমান করা—যিনি “হোয়াইট হাউসে পোল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বন্ধু”—একজন পোলিশ নেতার করা “সবচেয়ে অনুচিত কাজ,” সতর্ক করেন রোজ।
এর আগে এই সপ্তাহে নাভরোৎস্কি একটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার বৈঠক ডাকেন। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়, পোল্যান্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেবে কি না এবং চারজাস্তির কথিত “পূর্বাঞ্চলীয় ব্যবসায়িক ও সামাজিক যোগাযোগ”—বিশেষ করে রাশিয়া বা বেলারুশের সঙ্গে—নিয়ে অভিযোগগুলো পরিষ্কার করা। সংসদের স্পিকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাভরোৎস্কির প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা সমর্থন করা প্রধান বিরোধী দল ল’ অ্যান্ড জাস্টিস আগামী বছরের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। টাস্কের জোটসঙ্গীদের দুর্বল করাই তাদের কৌশলের অংশ।
চারজাস্তি বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে সম্মান করলেও তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। (এপি) RUK RUK
বিভাগ: ব্রেকিং নিউজ
এসইও ট্যাগ: #swadesi, #News, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘অপমানজনক মন্তব্য’-এর জেরে পোল্যান্ডের সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র
