
ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই) দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা চলাকালীন শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্ণায়ক জয়ের দিকে এগোতে দেখা যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পরিবর্তে নতুন সরকার গঠনের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি ১৫১টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।
ইসির এক মুখপাত্র জানান, কয়েকটি আসনের ফলাফল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে।
এই নির্বাচনকে বিএনপি এবং তাদের সাবেক মিত্র জামায়াতে ইসলামের মধ্যে সরাসরি লড়াই হিসেবে দেখা হয়, কারণ অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভেঙে দেওয়া আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে।
১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৮৪ দফা সংস্কার প্যাকেজ ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছিল, তারা জয়ী হলে দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন শুক্রবার ভোরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জিতে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।”
১৭ বছরের বেশি সময় স্ব-নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরা রহমান বিজয় মিছিল না করে জুমার নামাজের পর দেশজুড়ে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করতে নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান।
ইসি এখনও ভোটার উপস্থিতির হার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি এবং ভোটকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ নাকচ করেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসুর উদ্দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, “আগের নির্বাচনগুলোতেও ভোটের হার নিয়ে বিতর্ক ছিল। এখন দয়া করে এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না।”
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসায় ভিন্নতা স্বাভাবিক।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২,৬৫১ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬,০৩১ কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ২,০০০-এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত হয়েছে।
বিকাল ৪:৩০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই গণনা শুরু হয়।
দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
