
কলকাতা, ৩০ মার্চ (পিটিআই): অবাধ ও সুষ্ঠু বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) এবং ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি)-দের বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের অধীন ৩১টি থানাও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র যেমন কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামেও কর্মরত কর্মকর্তাদের এই বদলির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রবিবার কার্যকর করা হয়েছে।
এই বদলির আওতায় কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন থানায় আইসি ও ওসি হিসেবে কর্মরত ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরদেরও স্থানান্তর করা হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর সঙ্গে যুক্ত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার আইসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রাক্তন সহযোগী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হতে চলেছেন, ফলে এই আসনটি রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও আলিপুর, একবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, ভবানীপুর, নিউ মার্কেট, বৌবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা এবং বেহালা থানার ওসিদেরও বদলি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেবদুলাল মণ্ডলকে হলদিয়া থানার আইসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, কাজল দত্তকে কোলাঘাটে, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়কে আলিপুরদুয়ার থেকে এগরায় এবং চন্দ্রকান্ত শাসমলকে পটাশপুর থানার ওসি হিসেবে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের বদলির লক্ষ্য হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় প্রভাব কমিয়ে নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
একজন শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, এই নির্দেশটি নয়াদিল্লিতে কমিশনের দপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে এই ধরনের বদলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ দুই দফায় — ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
