রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে কিভ

কিভ (ইউক্রেন), ২৪ মে (এপি): ইউক্রেনের রাজধানী কিভ শনিবার ভোরে রাশিয়ার এক বৃহৎ আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। শহর জুড়ে বিস্ফোরণ ও মেশিনগানের গুলির শব্দ শোনা গেছে, ফলে বহু বাসিন্দা রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাতাল রেল স্টেশনগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই রাতের হামলা এমন এক সময়ে হল, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন এক জটিল বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে শত শত সেনা ও বেসামরিক নাগরিকের আদান-প্রদান শুরু করেছে। ইস্তানবুলে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া বৈঠকে এই বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়েছিল — যা গত তিন বছরের যুদ্ধে বিরল সহযোগিতার এক নিদর্শন।

কিভ সামরিক প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, শনিবার ভোরে কিভের অন্তত চারটি জেলার উপর গিয়ে পড়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংস হওয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ।

তিনি জানান, হামলার ফলে অন্তত ছয় জন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছে এবং সলোমিয়ানস্কি জেলায় দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

হামলার আগে কিভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ২০টিরও বেশি রুশ হামলা ড্রোন কিভের দিকে এগিয়ে আসছে।

হামলার মধ্যে ক্লিচকো জানান, একটি শপিং মল ও একটি আবাসিক ভবনের ওপর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। ঘটনাস্থলে জরুরি পরিষেবার দল পৌঁছে গেছে।

শুক্রবারের বন্দি বিনিময় ছিল ১,০০০ বন্দির এক জটিল আদান-প্রদানের প্রথম ধাপ।

রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, প্রথম ধাপে ৩৯০ জন ইউক্রেনীয়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সপ্তাহান্তে আরও বন্দি মুক্তির আশা করা হচ্ছে, যা এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বন্দি বিনিময় হতে পারে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন থেকে সমপরিমাণ বন্দি পেয়েছে।

বিনিময়টি উত্তর ইউক্রেনের বেলারুশ সীমান্তে হয়েছে বলে এক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।

রাশিয়ার মুক্ত বন্দিদের চিকিৎসার জন্য বেলারুশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

শুক্রবার যখন মুক্ত বন্দিরা চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রবেশ করছিল, তখন স্বজনেরা নাম বা ব্রিগেড নম্বর লেখা প্ল্যাকার্ড ও ছবি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তারা আশায় ছিলেন— কোনো খবরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের সন্ধান মিলবে।

“ভানিয়া!” — চিৎকার করে উঠলেন নাতালিয়া মসিচ, “আমার স্বামী!”

এই বন্দি বিনিময় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঘটে যাওয়া বহু বিনিময়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ বেসামরিক বন্দি মুক্তির ঘটনা, তবে এটি যুদ্ধ থামানোর কোনো ইঙ্গিত দেয় না।

প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার ফ্রন্ট লাইনে লড়াই এখনও চলছে, যেখানে উভয়পক্ষের হাজার হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছে, এবং কেউই হামলা থামানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই বিনিময়কে “আস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এখনও পরবর্তী আলোচনার জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত হয়নি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ শুক্রবার রাতে বলেন, বন্দি বিনিময় শেষ হওয়ার পর মস্কো একটি “টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি”-র খসড়া ইউক্রেনকে দেবে।

ইউরোপীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনায় দেরি করছেন এবং তার বড় সেনাবাহিনী দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভের চেষ্টা করছেন।

ইস্তানবুলের বৈঠকে দেখা গেছে, যুদ্ধ বন্ধের শর্তাবলীতে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। ইউক্রেনের জন্য একটি প্রধান শর্ত, যার পেছনে পশ্চিমা দেশগুলোরও সমর্থন রয়েছে, তা হলো সাময়িক যুদ্ধবিরতি — যা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত। (AP) RHL

Category: Breaking News

SEO Tags: #swadesi, #News, Kyiv comes under massive Russian drone, missile attack