কলকাতা, ২১ জুলাই (PTI) — মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার শহীদ দিবসের বিশাল জনসভা থেকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যুদ্ধের সূচনা করলেন।
তিনি বলেন, এই লড়াই শুধুমাত্র ব্যালট বক্সে নয়, বরং বাংলা ভাষা ও বাঙালি আত্মপরিচয় রক্ষার যুদ্ধে রূপান্তরিত হবে, যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভাষাগত সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে এক দ্বিতীয় ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
“ভাষাগত প্রোফাইলিং বন্ধ না হলে, আন্দোলন পৌঁছাবে দিল্লি”
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা হুঁশিয়ারি দেন,
“যদি এই ভাষাগত প্রোফাইলিং বন্ধ না হয়, তাহলে আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলন পৌঁছাবে দিল্লি পর্যন্ত।
আগামী ২৭ জুলাই থেকে বাংলা জুড়ে শুরু হবে ‘ভাষা ও বাঙালিত্ব রক্ষার আন্দোলন’।
এটা চলবে বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত।”
তিনি বলেন—
“প্রয়োজনে বিজেপির বাংলা ভাষা ধ্বংসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ভাষা আন্দোলন শুরু করতে হবে, যাতে ‘ভাষা সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে সবর হয় বাংলার জনতা।”
উল্লেখযোগ্য যে প্রথম ভাষা আন্দোলন হয় ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলায় (বর্তমানে বাংলাদেশ), যেখানে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা শহীদরা আত্ম বিলীন করেন।
জাতিসংঘ পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে।
“ভোটার তালিকা থেকেই বাদ দেওয়া হচ্ছে বাঙালিকে” — মমতা
মমতা आरोप করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ ষড়যন্ত্রে বাংলার সংখ্যালঘু এবং বাঙালি ভাষাভাষীদের একটি নীরব ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ অভিযান (Silent Purge)-এর শিকার করা হচ্ছে।
“মনোনয়নের দিন পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়া যায়। আমি আমাদের সংগঠনকে বলে দিচ্ছি — একটা নাম কেটে যেতে দেবেন না।
২০২৬ সালে আরও বেশি আসনে জিততে হবে, আর তারপর দিল্লি অভিযান করে বিজেপিকে গদি থেকে নামাতে হবে।”
স্লোগান: “জব্দ হবে, স্তব্ধ হবে…”
তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে নতুন ডাক দেন:
“জব্দ হবে, স্তব্ধ হবে। আমাদের দর্শন, তোমাদের বিসর্জন।”
মমতা দাবি করেন, NRC নোটিশ, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা, এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যে আটক শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালিকে লক্ষ্য করছে।
“ওরা চায় আমাদের পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, গর্ব সব মুছে ফেলতে।
কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি — যতদিন না ওদের রাজনীতি চুরমার করছি, এই লড়াই চলবে।”
বিদ্যাসাগরের মূর্তি থেকে এনআরসি
মমতা স্মরণ করান ২০১৯ সালের ঘটনা:
“বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ছিল ওরা। তাতেও শিক্ষা পায়নি। এখন আবার খোঁজ নিচ্ছে বাঙালির পরিচয়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছে—আর বিজেপি-শাসিত রাজ্যে তো ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোও শুরু হয়ে গেছে।”
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তীব্র প্রশ্ন
বিজেপির দাবি অনুযায়ী, বাংলায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গা বাস করেন — তার পাল্টা জবাবে মমতা বলেন:
“জাতিসংঘ বলেছে বিশ্বে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ থেকে ১৩ লাখ। তাহলে ১৭ লাখ রোহিঙ্গা এলো কোথা থেকে?
এটা মিথ্যে প্রচার। সংগঠনের কর্মীদের বলছি, ভোটার তালিকা থেকে সত্যিকারের বাঙালিদের নাম কাটার চেষ্টা রোখো। অন্য রাজ্য থেকে লোক ঢোকানো হচ্ছে — সেটাও বন্ধ করতে হবে।”
অসম মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরসি নিয়ে হুঁশিয়ারি
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্পর্কে মমতা বলেন:
“নিজে রাজ্য চালাতে পারেন না, আর বাংলা নিয়ে টানাটানি করছেন।
সুস্মিতা দেবকে বলছি — অসমে বড় আন্দোলন গড়ো। আমরা সব্বাই একসাথে যাব।
অসম সরকার কোন অধিকারে বাংলার বাসিন্দাদের এনআরসি নোটিশ পাঠায়?”
“বাংলা বহুত্ববাদী, সবাইকে গ্রহণ করে— কিন্তু বাঙালিদের হেনস্থা?”
মমতা বলেন,
“বাংলা হলো সহনশীলতার প্রতীক, এখানে ১.৫ কোটির বেশি অন্যান্য রাজ্যের মানুষ বসবাস করেন।
আমরা সবাইকে স্বাগত জানাই — কিন্তু বিজেপি বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে দিতে চাইছে?”
বিহারের ‘SIR’ মডেল নিয়ে আশঙ্কা
“বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন বাংলায় বিহারের মতো ‘SIR’ (Special Intensive Revision) প্রয়োগ করতে চায়, যেখানে ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম মুছে দিয়েছে।
এগুলো বাংলায় হবে না। চেষ্টা করলে কমিশনকে ঘেরাও করব।”
মোদিকে জবাব: “তুমি POK নিতে পারো না, বাংলা নেবে?”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের জবাবে মমতা বলেন:
“তুমি টেলিপ্রম্পটার দেখে বাংলা বলছো আর ভাবছো আমরা মন দিয়ে দেব?
তুমি তো পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিতে পারোনি, বাংলা জেতার স্বপ্ন দেখছো!”
তিনি ব্যঙ্গ করে আরও বলেন:
“তোমাকে তো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট চালায়। ফেব্রুয়ারিতে যে অবৈধ ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানো হলো, বেশিরভাগই ছিল গুজরাটের — ওদের নিয়ে তখন তুমি কী করেছিলে?”
উপসংহার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনীতি নয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের লড়াই হয়ে উঠছে, যেখানে বাংলা বনাম বিজেপি সংঘর্ষ শুধু ব্যালট পেপারে নয়, জনতার রাস্তাতেও গর্জে উঠছে।
#স্বদেশী
#খবর
#মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়
#ভাষাগত_সন্ত্রাস
#ভাষাআন্দোলন
#TMCvsBJP
#২০২৬নির্বাচন
#BengaliAsmita
#ShahidDibas
#BreakingNews

