নিউ ইয়র্ক, ৩ আগস্ট (এপি): তেল রপ্তানিকারক দেশগুলির জোট ওপেক+ (OPEC+) এর কয়েকটি সদস্য দেশ তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অনেকের মতে বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থান এবং কম তেলের মজুতের প্রেক্ষিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রবিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে আটটি দেশ সেপ্টেম্বর মাসে দৈনিক ৫,৪৭,০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
যেসব দেশ উৎপাদন বাড়াচ্ছে সেগুলি হল: সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান। এই দেশগুলি নভেম্বর ২০২৩ থেকে স্বেচ্ছায় উৎপাদন হ্রাসে অংশ নিচ্ছিল, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
এই ঘোষণার ফলে এই স্বেচ্ছাধীন উৎপাদন হ্রাস নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে।
এই পদক্ষেপ ওপেক+ এর জুলাই মাসে নেওয়া সিদ্ধান্তের পর এসেছে, যেখানে আগস্টে দৈনিক ৫,৪৮,০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানো হয়। ওপেক জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত বা পরিবর্তনও করা হতে পারে।
উৎপাদন বাড়লে তেল ও পেট্রোলের দাম কমতে পারে। তবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল, যা একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড, তা এখনও প্রায় ৭০ মার্কিন ডলার প্রতি ব্যারেলে লেনদেন হচ্ছে। গবেষণা সংস্থা ক্লিয়ারভিউ এনার্জি পার্টনার্স-এর মতে, এর কারণ হতে পারে বাজারে রাশিয়ান তেলের সম্ভাব্য ঘাটতি এবং চীনে কাঁচা তেলের মজুতে বড় বৃদ্ধি।
ক্লিয়ারভিউ একটি বিশ্লেষণাত্মক নোটে বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রুশ জ্বালানির উপর ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফস’-এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি থেকে সরে আসেননি।”
ওপেক জানিয়েছে, এই আটটি দেশ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আবার বৈঠকে বসবে। (এপি)

