কলকাতা, ২০ জুলাই (PTI) — পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার অভিযোগ করেন যে বিরোধী দলগুলি ২১ জুলাইয়ের তৃণমূল শহিদ দিবসের র্যালি ব্যর্থ করতে সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এই র্যালিকে “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই” বলে অভিহিত করেন।
কলকাতার মনোবিন্দু এসপ্ল্যানেডে র্যালির প্রস্তুতি ঘুরে দেখে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন:
“কেউ যদি নবান্ন অভিমুখে মিছিল করে, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আপনারা (বিরোধীরা) তো অনুমতি ছাড়া মিছিল করেন, তবুও আমরা বাধা দিই না।”
তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সব নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান করে, কিন্তু ২১ জুলাইয়ের মিছিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগ দেন বলেই বিরোধীরা অস্থির হয়ে ওঠে।
বিরোধীদের কটাক্ষ ও চ্যালেঞ্জ
মমতা বলেন,
“আপনারা পাল্টা র্যালির ডাক দিয়েছেন? দিন! কিন্তু মনে রাখবেন, মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে।”
তিনি এই মন্তব্য সামনেই সিলিগুড়ি ও পশ্চিম বর্ধমানে বিজেপির পাল্টা র্যালির প্রসঙ্গ টেনে করেন।
তিনি আরও বলেন:
“যারা আমাদের শহিদ দিবসের জমায়েতে আপত্তি তোলে, তারা আগে তৃণমূল থেকে শিখুক।”
১৯৯৩ সালের ঘটনার স্মরণে শ্রদ্ধা
মমতা বলেন,
“২১ জুলাই, ১৯৯৩ সালে পুলিশ কংগ্রেসের যুব সংগঠনের কর্মীদের ওপর গুলি চালায়, যাদের নেতৃত্বে ছিলাম আমি নিজেই।”
তিনি অভিযোগ করেন:
“CPI(M) পুলিশ দিয়ে গুলি চালায়, যাতে ১৩ জন শহীদ হন এবং আরো শতাধিক আহত হন।”
এই দিনটি তাই ‘গণতন্ত্র দিবস’ এবং ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে তৃণমূল, জানান মমতা।
আদালতের নির্দেশ এবং পরিস্থিতি
কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি মিছিল ও র্যালির সময় নিয়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে, যাতে ২১ জুলাইয়ের দিন সাধারণ মানুষ ও দপ্তরের কর্মচারীরা অসুবিধায় না পড়েন।
মমতা বলেন,
“আমরা জানি রাস্তায় সমস্যা হতে পারে, তাই আগেই সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
বন্যা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি
তিনি জানান,
“আজকের দিনে দক্ষিণবঙ্গের নানা এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ১.৩০ লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান:
-
রাজ্যে ৫ লক্ষের বেশি পুকুর খনন করা হয়েছে,
-
৫০০-র বেশি চেক ড্যাম তৈরি হয়েছে,
-
ও ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ ও ‘লোয়ার দামোদর বসিন প্রকল্প’ আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
বিজেপি এবং CPI(M)-এর বিরুদ্ধে পুনরায় আক্রমণ
তিনি অভিযোগ করেন:
“BJP শাসিত রাজ্যে বাংলার বাসিন্দাদের বাংলাদেশি বলে গ্রেফতার করা হচ্ছে – শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য। এটা অসম্মানজনক।”
তিনি বলেন,
“আমরা সব ভাষা ও রাজ্যের মানুষকে সম্মান করি, কিন্তু বাংলায় কথা বললেই কাউকে হেনস্তা করা যাবে না।”
প্রস্তুতির বার্তা ও দলীয় অনুশাসন
মমতা বলেন,
“আমরা প্রতি বছর মিটিং শেষে জায়গা পরিষ্কার করি, কিন্তু বিরোধীরা সেটা করে না।”
পরবর্তীতে এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানান।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়ে শিবিরগুলির পরিদর্শন করেন, যেখানে কর্মীদের রাখা হয়েছে।
উপসংহার
২১ জুলাই শহিদ দিবসকে ঘিরে এবারও রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা জোরালো — “এই লড়াই গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশে আছেন।”
#স্বদেশি #সংবাদ #মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায় #২১জুলাই #শহিদ_দিবস #TMC #BJPvsTMC #CPI(M) #গণতন্ত্র_দিবস #BengalPolitics #BreakingNews

