কলকাতা, ২৬ জুলাই (PTI) — পশ্চিমবঙ্গের প্রতি দিনে গড়ে ২৫-এর বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছেন, যার অর্ধেকই শিশু — সম্প্রতি Child in Need Institute (CINI) ও The George Institute for Global Health পরিচালিত এক সমীক্ষায় এমনটাই উঠে এসেছে।
সমীক্ষা জানাচ্ছে, বছরে গড়ে ৯,০০০-রও বেশি মানুষ ডুবে মারা যাচ্ছেন বাংলায়। এই গবেষণা রাজ্যের প্রায় ১.৮ কোটি মানুষের ওপর চালানো হয়েছিল এবং এতে দেখা যায়, ১ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে—প্রতি লাখে মৃত্যুহার ১২১, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।
প্রধান তথ্য:
-
বছরে গড়ে ৯,১৯১ জনের মৃত্যু হয় ডুবে, সরকারি সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।
-
১-৪ বছরের ছোট শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে; অনেক সময় মা-বাবা বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকলে পাশের জলাশয়ে শিশুরা ডুবে যায়।
-
৯০%-এর বেশি শিশু-কেসে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক উপস্থিত থাকেন না—প্রায় সব উদ্ধার ও ফেরানো (রিভাইভাল) হয় প্রশিক্ষণবিহীন প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনের দ্বারা।
-
মাত্র ১০% ক্ষেত্রে CPR (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়া হয়েছে, আর ১২% ক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে।
-
মৃত্যু বেশি noon থেকে দুপুর ২টার মধ্যে, যখন বাবা-মা মাঠে বা রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকেন।
-
শিশুদের ডুবে মৃত্যু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বের জলাশয়ে ঘটে।
-
পশ্চিমবঙ্গে দেশের ডুবে মৃত্যুর ১৭ শতাংশের বেশি ঘটে।
-
আনুমানিক ৮০%-এর বেশি মৃত্যুই সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্তই হয় না।
প্রতিরোধের উদ্যোগ:
-
পরীক্ষামূলকভাবে ১০১টি জলাশয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং সুন্দরবনে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে শিশুদের দেখার জন্য ‘কভচ কেন্দ্র’ খোলা হয়েছে।
-
শিশুদের CPR সম্পর্কে এগিয়ে শিক্ষাদান ও কমিউনিটি সচেতনতা বাড়াতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
কী করতে হবে:
-
স্থানীয় পঞ্চায়েত, পরিবার ও প্রতিবেশীদের যুক্ত করে জনসচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
-
শিশুদের খেলনা, স্নান, খেলা ও কাজের সময় জলাশয়ের আশেপাশে নজরদারি রাখতে হবে।
-
CPR প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।
#স্বদেশী
#সংবাদ
#পানিতে_ডুবে_মৃত্যু
#শিশু_নিরাপত্তা
#পশ্চিমবঙ্গ
#জনসচেতনতা
#CINI
#TheGeorgeInstitute
#জলাশয়_নিরাপত্তা
#WorldDrowningPreventionDay
#তাজা_সংবাদ

