কলকাতা, ২০ জুলাই (PTI) — ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর রেখে, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবারের ২১ জুলাই শহীদ দিবসের সমাবেশকে ব্যবহার করতে চলেছে তাদের ‘বাংলা গর্ব’ বার্তাকে আরও তীক্ষ্ণ করতে এবং বিজেপিকে আক্রমণ করার জন্য যে বাংলাভাষী প্রবাসীদের উপর গেরুয়া শাসিত রাজ্যগুলিতে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
আসাম, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং দিল্লির মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর ভাষাগত প্রোফাইলিং এবং হেনস্তা নিয়ে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান — এই প্রেক্ষাপটে কলকাতার এসপ্ল্যানেডে ২১ জুলাই‘র সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের প্রতি এক দৃঢ় বার্তা দিতে চলেছেন, এই দাবি করে যে —
“বাংলাদেশি বলে অপমান সহ্য নয়, বাঙালিরা নিজেদের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয়।”
এক সিনিয়র তৃণমূল নেতা PTI-কে বলেন,
“বারংবার গরিব বাংলাভাষী শ্রমিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে তুলে এনে হেনস্থা করা হচ্ছে। বিজেপি গরিবিকে অপরাধ বানাচ্ছে এবং পরিচয়কে অস্ত্র করে প্রান্তিক মানুষদের উপর আঘাত করছে।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলা রাজনৈতিক বিতর্কে উত্তাল, যখন মমতা অভিযোগ করেন যে বাংলাভাষীদের নিপীড়ন, আটক এবং জাতীয় নিরাপত্তার নামে প্রোফাইলিং করা হচ্ছে।
এক সাম্প্রতিক জনসভায় তিনি বলেন,
“বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি হয়ে জন্মানোই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা ভাবে প্রতিটি বাঙালি বাংলাদেশি। এই অপমান আমরা সহ্য করব না।”
তৃণমূল কংগ্রেস ভাষাগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এবং ২০২১ সালের নির্বাচনেও যেখানে তারা হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক পরিচয় ও বাঙালি সংস্কৃতির আবেগী বার্তা নিয়েই পেরেছিল বড় জয় পেতে — সেই কৌশল এবার আরও জোরালো করতে চলেছে।
এক তৃণমূল সাংসদ বলেন,
“এই লড়াই শুধু ভোটের নয়, এটা অস্তিত্বের লড়াই। বিজেপি তথাকথিত জাতীয়তাবাদের নামে বাঙালির মর্যাদা ও সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।”
বিজেপির পাল্টা সুর
এদিকে বিজেপি তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, মিগ্রেন্ট ইস্যুতে বিভ্রান্তি তৃণমূলের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল। তাদের দাবি,
“নাগরিকত্ব ও ভোটার দলিল সঠিকভাবে না সংরক্ষণের দায় চাপাচ্ছে বিজেপির উপর,” বললেন এক বিজেপি নেতা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দুর্গাপুর জনসভায় বলেন,
“তৃণমূল ভোট ব্যাংকের জন্য অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দিচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে। প্রকৃত বাংলা গর্ব রক্ষা করছে বিজেপিই।”
ইতিহাস ও বর্তমান রাজনীতির সন্ধিক্ষণে শহীদ দিবস
২১ জুলাই শহীদ দিবসের মূল প্রেক্ষাপট : ১৯৯৩ সালে তরুণ কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন অভিযানে নেতৃত্ব দেন, ভোটার কার্ডকে একমাত্র প্রমাণপত্র করার দাবি তুলেছিলেন। সেইদিন পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুবক নিহত হয়।
তখন থেকেই ২১ জুলাই তৃণমূলের সবচেয়ে বিশাল রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের স্মারক দিন হয়ে উঠেছে।
এবারের সমাবেশ, দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যুদ্ধের সূচনার মঞ্চ হতে চলেছে, যেখানে তৃণমূল ‘বাংলা অপমান’ ও ‘পরিচয়’ ইস্যুকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
এক তরুণ তৃণমূল বিধায়ক বলেন,
“২০১১ সালে আমরা ‘পরিবর্তন’ দিয়েছিলাম, এবার ‘প্রতিবাদ’ দেবো।”
জনসমাবেশের প্রস্তুতি ও আবেগ
সোমবারের এই বিশাল সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কর্মী কলকাতায় পৌঁছে গেছেন, কেউ ঠাসা লোকাল ট্রেনে, কেউ ট্রাকে তৃণমূল পতাকা বেঁধে।
এসপ্ল্যানেড ও শিয়ালদহ অঞ্চলের চায়ের দোকান ও খাবারের হোটেলগুলোতে চলছে উন্মাদনা, শোনা যাচ্ছে জনপ্রিয় স্লোগান:
“খেলা হবে, আবার হবে”
“বাংলার কেউ বাংলাদেশি নয়”
এক দলীয় কৌশলী বলেন,
“১৯৯৩ থেকে ২০২৫ — এই সমাবেশ আর শুধু শ্রদ্ধার অনুষ্ঠান নয়, এক সরব প্রতিবাদ। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আওয়াজ — অপমানের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, বাংলার আত্মার জন্য।”
২০২৬ সালের ভোটের প্রাক্কালে যেখানে বিজেপি নিজেকে শক্ত বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে, এমন এক সময় ২১ জুলাই শহীদ দিবস আজ শুধুমাত্র স্মারক প্রকল্প নয়, বরং হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক যুদ্ধের দামামা।
বাংলার মাটি, আত্মপরিচয় ও স্মৃতির রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, এবারের শহীদ দিবসের বার্তা কার্যত ঘোষণা করল নতুন লড়াই —
যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার একবার প্রধান ভূমিকায়, আর ‘বাঙালি অস্মিতা’ হয়ে উঠেছে একাধারে ঢাল ও অস্ত্র।
#স্বদেশী
#সংবাদ
#TMC
#২১জুলাই
#বাংলাগর্ব
#বাঙালিআস্মিতা
#শহীদদিবস
#BJPvsTMC
#রাজনৈতিকসংঘাত
#BreakingNews

