“তোমরা আমাকে হারাতে পারো না যতক্ষণ আমি তা না চাই”: বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ মমতার

ঝাড়গ্রাম, ৬ আগস্ট (PTI) — পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ায় বললেন, “তোমরা আমাকে হারাতে পারবে না যতক্ষণ আমি তা দিতে না চাই।” তবে তিনি সরাসরি বিজেপির নাম নেননি।

ঝাড়গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ে এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি একটি বাঘ এবং কেউ তাঁর উপর আঘাত করার সাহস দেখালে তিনি “বিপজ্জনক” হয়ে উঠবেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সতর্ক করে বলেন, তাঁকে অবমূল্যায়ন করবেন না এবং স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

নিজের রাজনৈতিক অতীতের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তিনি সিপিআই(এম)-এর গুলির থেকে বেঁচে গিয়েছেন। “আমার মাথা ফুটেছিল, রক্তে ভেজা ছিল আমার শরীর। আমি ভয় পাই না। আমি তোমাদের পিঁপড়ে মতো চ bumper। আমি জীবন্ত বাঘ। আমাকে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করো না, আমি বিপজ্জনক হব।”

তিনি আরও বলেন, “তোমরা আমাকে শুধুমাত্র তখনই হারাতে পারবে, যখন আমি তা অনুমতি দেব। যদি আমি না চাই, তাহলে তোমরা পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সহজ নয়।”

এই প্রচণ্ড উগ্র বক্তব্যকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিজেপিকে দেওয়া সাহসী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন।

মমতার বক্তব্য আসে এমন সময় যখন নির্বাচন কমিশন তাঁর সরকারের চারজন সরকারি কর্মকর্তাকে, যাদের মধ্যে দুই জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) রয়েছেন, সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল।

মমতা এই নিয়োগকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেন, “কমিশন অমিত সাহের এজেন্টের মতো কাজ করছে। এটা অমিত সাহের পুতুলের মতো আচরণ করছে। বাংলার মানুষ এই অপমান সহ্য করবে না। আমি আমার অফিসারদের শাস্তি হতে দেব না। সাহস থাকলে চেষ্টা করো।”

তিনি ভোটারদের নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় চেক করতে এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, “তোমার ভোটার তালিকায় নাম তোমার পরিচয়। এখনই রেজিস্ট্রেশন করো এবং পরে আবার ডাবল চেক করো। নির্বাচন দিবসে দেখবে তোমার নাম নেই, তখন হতাশ হও না।”

এছাড়া তিনি এনআরসি-সম্পর্কিত ভয়ভীতি তৈরির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অসম থেকে বাংলায় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য। এদের লজ্জা নেই।”

ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহলের স্মৃতি টেনে মমতা বলেন, “১৯৯২ সালে বেলপাহাড়ি পরিদর্শনের সময় মানুষ পিঁপড়ে ও গাছের কাণ্ড ভাজছিল খাবার জন্য। সেই দিন আমি ঠিক করেছিলাম বিষয়গুলো বদলাতে হবে। তাই আমি চালু করেছিলাম ‘খাদ্য সাথী’– যেন বাংলায় কেউ ক্ষুধার্ত না থাকে।”

বাঙালি ভাষাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা নিয়ে তিনি কড়া প্রতিবাদ করেন, “এখন বাঙালি ভাষায় কথা বললে বলা হয় বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা। এটা বাঙালি ভাষার ওপর হামলা।”

তিনি জনগণকে আন্দোলনের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, “‘জয় বাংলা’ বলো। প্রতিবাদ করো। লড়াই ছাড়ব না। তোমার ভোটার কার্ড শুধু একটি কার্ড নয় – এটা তোমার পরিচয়ের প্রমাণ।”

আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তিনি বলেন, “তুমি আমাকে তখনই সরাতে পারবে যখন আমি স্বেচ্ছায় সরে যাবো। না হলে তোমাদের সমর্থকরাও আমাকে ভোট দেবে।”

তিনি রাজ্য সরকারের কর্মীদের সরাসরি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “তুমি মানুষের জন্য কাজ করো। তোমার রক্ষা আমার দায়িত্ব। তারা তোমাদের ভয় দেখাবে, তবে সফল হবে না। নির্বাচনের নামে বাংলায় হয়রানি চলতে দেওয়া হবে না।”

মমতার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির সিনিয়র নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “সিএময়ের এই বক্তব্য তাদের অনিরাপত্তাকে প্রকাশ করছে। পিঁপড়ের মতো প্রতিপক্ষদের ধ্বংস করার হুমকি দেখাচ্ছে কতটা দুর্বল ও মরিয়া হয়ে পড়েছেন তিনি।”

এসইও ট্যাগস:

#স্বদেশী, #সংবাদ, #মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায়, #বিজেপি_চ্যালেঞ্জ, #পশ্চিমবঙ্গ_রাজনীতি, #ভোটার_তালিকা, #নির্বাচন_কমিশন, #নির্বাচন_২০২৬, #জয়_বাংলা, #রাজনৈতিক_বক্তব্য